বাংলাদেশ এক কঠিন সময় পার করছে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, কৃষকরা ন্যায্য দাম পান না, তরুণরা বেকার হয়ে ঘুরছেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় মানসম্মত সেবা পাওয়া কঠিন। গত দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতি শুধু প্রতিশ্রুতি আর স্লোগানে ভরা ছিল, কিন্তু মানুষের জীবনে তা তেমন কোনো সুখবর বয়ে আনেনি। এখন সময় এসেছে এমন রাজনীতির, যা কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাস করবে।
বিএনপি সেই প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি স্পষ্টভাবে বলছে - নীতিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতিই দেশের ভবিষ্যৎ বদলাতে পারে। তাই বিএনপি এখনই জনগণের জীবনোদ্ধারমূলক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে, যাতে ক্ষমতায় গেলে সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করা যায়।বিএনপি যে ৮টি খাতে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেগুলো হলো: ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং ধর্মীয় নেতাদের জন্য উন্নয়ন সেবা।
ফ্যামিলি কার্ডঃ
জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। বিএনপি প্রতিটি পরিবারে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়। প্রতিটি পরিবার মাসে ২,০০০–২,৫০০ টাকা সমমূল্যের খাদ্য ও জরুরি পণ্য পাবে। এর ফলে পরিবারগুলোর কিছু টাকা সঞ্চয় হবে এবং সেই সঞ্চয়ের মাধ্যমে নারী সদস্য নেতৃত্বে আয়ের ছোট উদ্যোগ শুরু করা সম্ভব হবে — যা হবে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষার একটি স্থায়ী পথ।
কৃষক কার্ডঃ
কৃষকেরা দেশের খাদ্যের যোগান দেন, কিন্তু ন্যায্য দাম ও প্রয়োজনীয় সহায়তা অনেক সময় পান না। কৃষক কার্ড চালু হলে কৃষকরা স্বল্পমূল্যে সার, উন্নত বীজ ও কৃষি প্রযুক্তি পাবেন। পাশাপাশি সহজে ঋণ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, কৃষকের আয় বাড়বে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। কৃষক বাঁচলে দেশও বাঁচবে।
স্বাস্থ্যসেবাঃ
চিকিৎসা ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় বোঝা। বিএনপি প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবে এবং সারা দেশে শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের অন্তত ১,০০,০০০ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই নারী হবেন, যাতে নারী ও শিশুদের সেবা আরও সহজে পাওয়া যায়। রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসচেতনতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হবে সবার অধিকার — আর তা পৌঁছে যাবে প্রতিটি গ্রাম, শহরের ওয়ার্ড ও মানুষের ঘরের খুব কাছে।
শিক্ষাঃ
মুখস্থ বিদ্যায় নয়, চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের ভবিষ্যৎ উন্নত করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবস্থান ও আর্থিক সুরক্ষা উন্নত করা হবে। পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের বাস্তব যোগসূত্র তৈরি করা হবে যেন শিক্ষার ফল বাস্তব চাকরি ও উদ্যোগে কাজে লাগে। শুধু সার্টিফিকেট নয়—কাজের দক্ষতা বাড়ানোই হবে বিএনপির মূল লক্ষ্য।
ক্রীড়াঃ
তরুণদের শক্তিকে ইতিবাচক পথে ব্যবহার করতে সারা দেশে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো হবে। ক্রীড়াকে শুধু শখ নয়, পেশা হিসেবেও গ্রহণযোগ্য করতে বিএনপি সব স্তরে খেলাধুলার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবে। স্কুল ও কলেজে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হবে এবং পর্যাপ্ত ক্রীড়া শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে নতুন প্রতিভা তৈরি হবে, তরুণরা কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র পাবে এবং সামাজিক ক্ষতি কমবে।
পরিবেশঃ
জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের বাস্তবতা। বিএনপি নবায়নযোগ্য শক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং বাড়িয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করবে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং মৌসুমি বন্যা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সারা দেশে ২৫,০০০ কিলোমিটার খাল ও নদী খনন ও পুনঃখনন করা হবে। নদীর জল প্রবাহমান রাখতে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল জনপদকে পানির সুবিধা দিতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—এতে তিস্তা ব্যারেজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে, যেন প্রকৃত উপকার জনগণ পায় এবং দেশের পানি ব্যবস্থাপনা আরও টেকসই হয়।
কর্মসংস্থানঃ
SME, ব্লু ইকোনমি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আইসিটি খাতে ব্যাপক নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে, যাতে পরিবারে আয় বাড়ে ও অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়। বিএনপি তথ্যপ্রযুক্তি, ই-কমার্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, গেমিং ও স্টার্টআপ খাতকে কর্মসংস্থানের প্রধান উৎসে পরিণত করবে। একই সঙ্গে বিদেশি শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ খুঁজে বের করে এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে আরও বেশি তরুণকে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্টে পাঠানো হবে। দেশের প্রতিটি জেলায় স্কিল-আপগ্রেডেশন প্রোগ্রাম চালু করা হবে—যার ফলে তরুণরা শুধু সার্টিফিকেট নয়, বাজার উপযোগী দক্ষতা অর্জন করবে। নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক তরুণদের জন্য বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
ধর্মীয় নেতাদের সেবাঃ
ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় নেতারা সমাজে শান্তি, নীতি ও মানবিকতার বার্তা ছড়ান। বিএনপির পরিকল্পনা প্রতিটি খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের পুরোহিত, পাদ্রীসহ ধর্মীয় নেতারা মাসিক সম্মানী পাবেন, যাতে তাদের জীবনমান উন্নত হয়। ধর্মীয় উৎসব ও বিশেষ অনুষ্ঠানে আর্থিক সুবিধা ও সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারেন এবং পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার আরও উন্নতি ঘটে।
নতুন সংযোজন: তথ্য-ভিত্তিক প্রচার—ভোটার হবে আরও সচেতন
বিএনপি শুধু নীতি তৈরি করেই থেমে নেই। সারা দেশের সব জেলা ও সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৭,০০০–এর বেশি মূল দল এবং দলীয় অঙ্গ সংগঠনের কর্মীকে নিয়ে বৃহৎ তথ্য-প্রচার কর্মসূচি শুরু করেছে, যেখানে এই ৮টি নীতির প্রতিটি বিস্তারিতভাবে তাদের জানানো হচ্ছে।
এই কর্মীরা ঘরে ঘরে, এলাকায় এলাকায় গিয়ে ভোটারদের কাছে প্রকৃত তথ্য পৌঁছে দেবেন। ফলে, মানুষ আগেভাগেই জানতে পারবে বিএনপি তাদের জন্য কী পরিকল্পনা করেছে, ভুল তথ্যের সুযোগ কমবে, ভোটাররা নিজেদের ভবিষ্যৎ ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেনI
এটি নির্বাচনী প্রচারণায় একটি গুণগত পরিবর্তন আনবে, যেখানে ভোট বৈজ্ঞানিক যুক্তি, সমাধানের পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে হবে। “ভোট দিলে কী পরিবর্তন আসবে” - এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখন ভোটারদের সামনে থাকবে। আর সেই উত্তর হলো - বিএনপি ভোট মানে জীবনে পরিবর্তন, জীবিকায় উন্নতি।